Posts

অধ্যায় "আখেরাতের জীবন অন্তহীন"

  ২। অধ্যায় "আখেরাতের জীবন অন্তহীন"   আলহামদুলিল্লাহ।   আল্লাহ তাআলা এ দুনিয়ার ধ্বংস এবং দুনিয়াবাসীর মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র সম্মান ও শ্রদ্ধাযোগ্য আপনার প্রতিপালকের চেহারা ছাড়া।”।[সূরা আর-রহমান, আয়াত: ২৬-২৭] তিনি আরও বলেন: “প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদনকারী। এরপর তাদেরকে আমার দিকেই ফিরে আসতে হবে।”[সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৭৫]   এরপর আল্লাহ তাআলা মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন। এবং তাদেরকে চিরস্থায়ী জীবন দান করবেন; যার কোন শেষ নেই। প্রত্যেকের আমল অনুযায়ী তাদের হিসাব নিবেন। নেককারকে তার নেকি অনুপাতে প্রতিদান দিবেন। বদকারকে তার বদ অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন। এরপর মানুষ দুই ভাগ হয়ে যাবে। একভাগ জান্নাতে যাবে; অপরভাগ জাহান্নামে যাবে। জান্নাতবাসী চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকবে। জাহান্নামবাসী চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে।   কুরআনে কারীম ও সহিহ হাদিসে এ মর্মে অনেক সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে–   ১. আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, অবশ্য আমি প্রবিষ্ট করাব তাদেরকে জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়ে...

অধ্যায় "আখেরাতের জীবন অন্তহীন"

  ২। অধ্যায় "আখেরাতের জীবন অন্তহীন"   আলহামদুলিল্লাহ।   আল্লাহ তাআলা এ দুনিয়ার ধ্বংস এবং দুনিয়াবাসীর মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র সম্মান ও শ্রদ্ধাযোগ্য আপনার প্রতিপালকের চেহারা ছাড়া।”।[সূরা আর-রহমান, আয়াত: ২৬-২৭] তিনি আরও বলেন: “প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদনকারী। এরপর তাদেরকে আমার দিকেই ফিরে আসতে হবে।”[সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৭৫]   এরপর আল্লাহ তাআলা মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন। এবং তাদেরকে চিরস্থায়ী জীবন দান করবেন; যার কোন শেষ নেই। প্রত্যেকের আমল অনুযায়ী তাদের হিসাব নিবেন। নেককারকে তার নেকি অনুপাতে প্রতিদান দিবেন। বদকারকে তার বদ অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন। এরপর মানুষ দুই ভাগ হয়ে যাবে। একভাগ জান্নাতে যাবে; অপরভাগ জাহান্নামে যাবে। জান্নাতবাসী চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকবে। জাহান্নামবাসী চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে।   কুরআনে কারীম ও সহিহ হাদিসে এ মর্মে অনেক সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে–   ১. আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, অবশ্য আমি প্রবিষ্ট করাব তাদেরকে জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়ে...

মেরাজের ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য নবীদের ইমাম হওয়ার হেকমত

Image
মেরাজের ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য নবীদের ইমাম হওয়ার হেকমত   আলহামদুলিল্লাহ।   মসজিদে আকসাতে (যে মসজিদ ইব্রাহিম খলিল আঃ এর পরে আগত সকল নবীর ইবাদত ঘর) অন্য নবীদের ইমাম হয়ে আমাদের নবীর নামায আদায় করার কারণ হচ্ছে এটা প্রমাণ করা যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবচেয়ে বড় নেতা; সবচেয়ে প্রাধান্যযোগ্য; হাফেয ইবনে কাছির (রহঃ) সুস্পষ্টভাবে এ কথা সূরা বনি ইসরাইলের তাফসিরের প্রথমেই উল্লেখ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সকল নবীর ইমাম হয়ে নামায আদায় করা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন: “এরপর তাঁর মর্যাদা ও ফজিলত প্রকাশ করার জন্য ইমামতির ক্ষেত্রে তাঁকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এটি ছিল জিব্রাইল (আঃ) এর ইঙ্গিত মোতাবেক।”   কোন সন্দেহ নেই আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই প্রাধান্য পাওয়ার উপযুক্ত; নবীদের সেরা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আমি কেয়ামতের দিন সকল বনী আদমের নেতা হব। সর্বপ্রথম আমার কবর উন্মুক্ত করা হবে। আমি হব সর্বপ্রথম সুপারিশকারী ও সর্বপ্রথম যার সুপারিশ গৃহীত হবে।”[সহিহ মুসলিম...

স্বলাত/ নামাজ

আমাদের দেশে ২ ধরনের নামাজ আদায় হয়, মহি লা ও পুরুষের আসলেই কি ভেদাভেদ আছে? আলহামদুলিল্লাহ। সঠিক মতানুযায়ী মহিলাদের নামায ও পুরুষের নামাযের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কিছু কিছু ফিকাহবিদ যে পার্থক্যগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলোর পক্ষে কোন দলিল নেই। প্রশ্নে আপনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন “তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবে নামায আদায় কর” এর বিধান সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করবে। ইসলামী বিধি-বিধানগুলো নারী-পুরুষ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে, দলিল যদি বিশেষ কোন বিধানকে খাস করে সেটা ভিন্ন কথা। অতএব, সুন্নাহ হল— রুকু, সেজদা, ক্বিরাত ও বুকে হাত রাখা ইত্যাদি সবক্ষেত্রে মহিলার নামায পুরুষের নামাযের মত। অনুরূপভাবে রুকুকালে হাঁটুতে হাত রাখার পদ্ধতিও একই। সেজদাকালে কাঁধ বরাবর কিংবা কান বরাবর জমিনে হাত রাখার পদ্ধতিও একই। রুকুকালে পিঠ সোজা রাখার পদ্ধতিও অভিন্ন। রুকু ও সেজদাতে যা পড়া হবে সেগুলো এক। রুকু ও প্রথম সেজদা থেকে উঠে যা বলবে সেটাও এক। এ সব ক্ষেত্রে নারীর নামায পুরুষের নামাযের ন্যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্বোক্ত হাদিসের ভিত্তিতে: “তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবে ন...

আল্লাহর নয়, এখন চলে মানুষের বিধান

    আমার জন্মদাতা পিতা-মাতা বেশ ভাল করেই জানেন কোন পথে গেলে আমি ভাল থাকব আর কোন পথে গেলে খারাপ, তাই তারা ছোট বেলা থেকে সকলের পিতা মাতাই সকলকে একটি দিক বলে দেয়, অমুকের সাথে যেও না, অমুক ভাল না, অমুক থেকে দূরে থেক, ঐ কাজ থেকে দূরে থাক, ঐ গুলা ভাল কাজ না, ইত্যাদি আমদের কে সতর্ক করে দেয়, আমাদের লেখা পড়া শিখিয়ে আমাদের জ্ঞানী ও বিচুক্ষন করার ভাবনায় থাকে যেন আমরা ভবিষ্যতে কোন সমস্যা বা অভাবে না পরি। আমাদের সাক্সেস দেখতেচায় আমাদের পিতা ও মাতা । সকলের বেলায়ই এমন শুধুই শুভ কামনা। যদি আমরা তাদের কথামত না চলি তাহলে আমাদের সাথে অনেক ঝগরার বিচার, সেই বিচার এমন কি দৌরানী ও মার ও খেতে হয় আমাদের । তাই এই দুনিয়ার সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'আলা, আল্লাহ্‌ সুবহানা তা'আলাই ভাল জানেন আমরা কোন পথে চললে ভাল থাকব আর কোন পথে খারাপ। তাই তিনি আমাদের সতর্ক করেছেন অনেক কিছু থেকে, আর যেহেতু এই দুনিয়া ও দুনিয়ার সিকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা তাই তিনিই আল্লাহ্‌ তা'আলা হলেন একমাত্র বিধান দাতা। আমরা যদি আল্লাহর বিধান মেনে চলি তাহলে আমাদের চলার পথে ও আখেরাতে কোন সমস্যা হবেনা ইনশাল্লাহ, তাই...

অধিকাংশ লোকের ব্যাপারে আল্লাহর বক্তব্য

Image
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। আমাদের সমাজে প্রচলন আছে বেশিরভাগ লোক যা করে তাই ঠিক। বুঝানোর জন্য এমন ও বলে থাকে যে " পাঁচজন যেখানে আল্লাহ ও সেখানে" মানে হলো অধিকাংশ লোক যা করে সেটাই ঠিক।  আসলেই কি তাই? আমরা মানুষ স্বার্থের টানে মিথ্যা বলতেও দ্বিধা করি না। আর ইসলামে প্রমাণ ব্যতীত কোন কথার-ই মূল্য নেই। তাই ঐ সমস্ত কথা শুনতে যতই ভাল লাগুক শুধু কথার কথা কাজের নয়। গ্রহনীয় নয়। আল্লাহ সুবহানা তা'লার বাণী কোরআনুল কারীম এ কোন মিথ্যা নেই। প্রথমে আমরা কোরআন থেকে দেখব এই অধিকাংশ বা বেশিরভাগ লোকের ব্যাপারে আল্লাহ কি বলেছে।  আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ أَوَكُلَّمَا عَاهَدُوا عَهْدًا نَّبَذَهُ فَرِيقٌ مِّنْهُم ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ [٢:١٠٠] "কি ব্যাপার! যখনই তারা কোনো ওয়াদাতে অঙ্গীকার করেছে, তাদের একদল তা প্রত্যাখ্যান করেছে? না, তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।" [সূরা বাক্বারাঃ ২/১০০]  أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ "অধিকাংশ লোকেই শুকুরানা আদায় করে না।"[সূরা বাক্বারাঃ ২/২৪৩] كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّ...

আল্লাহর প্রতি ভালবাসা ও ভয়

Image
আল্লাহর প্রতি ভালবাসা আল্লাহকে ভালবাসতে হবে দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে উর্ধে। কারন আল্লাহর কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। আল্লাহ আমাদের জন্য ৫ ওয়াক্ত স্বলাত ফরজ করেছেন, যেন আমরা তাকে স্মরনে রাখি ভূলে না যাই। যদি এই হুকুম ভালবাসার টানে না নিয়ে, অন্য যে কোন ভাবে নেই, তাহলে এমন হবে যে; ফজর এর নামাজ ৪ রাকাত; ৫ মিনিট। যোহর এর ফরয ৪ রাকাত; ২/৩ মিনিট। আসর ২/৩ মিনিট। মাগরেব ২/৩ মিনিট। এশা ৬ মিনিট। দায়ভার শেষ। এমন কি ভাবি যে আমার এই নামাজ কতখানী গ্রহণীয়? আমরা ভাবি না। তাই আজ এই হাল. আর যদি আল্লাহ কে ভালবেশে রসূল সাঃ কে ভালবেসে সুন্নত আকড়ে ধরে স্বলাত আদায় করতাম? তাহলে আমাদে স্বলাত হতো; ফযর সুন্নত সহ, ২০ মিনিট। (কারন ফজরের ফরয নামাজটা অন্ধকার থেকে শুরু করে ফর্সা করা পর্যন্ত পড়া সুন্নত সম্মত) যোহর ৪ রাকাত ফরয, কমের পক্ষে ১৫/২০ মিনিট। আসর ১৫/২০ মিনিট। মাগরেব ১৫ মিনিট, শুধু ফরয। এশা, সময় নিয়ে নিজের মনের মত একটা বড় সূরা.... আমরা কেন আল্লাহ কে ভালবেসে তার এবাদত করি না? কারন আমরা আল্লাহর চেয়ে এই পার্থিব জীবনকে জীবনের প্রয়োজন কে, প্রয়োজনীয় মানুষকে বেশি ভালবাসি। আল্লাহ বলেছেনঃ وَمِنَ النَّاسِ مَن يَ...