Wednesday, 25 January 2017

একগুঁয়ে ও জেদী নারীঃ


লিখেছেন:
আমীনা মাসআদ আল হারবী
সহকারী প্রফেসর
কিং আবদুল আযীয বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদী আরব।
দাম্পত্য, পরিবার ও সমাজ বিষয়ক পরামর্শদাতা
==================================
একগুঁয়ে ও জেদী নারীরা দাম্পত্য জীবনে ব্যর্থ এবং এমনকি আত্মীয়দের সাথেও সুসস্পর্ক গড়তে ব্যর্থ।
যে নারী সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে আবেগ-ভালোবাসা আর নমনীয়তার বিচক্ষণতা হারিয়েছে আর নিজের মতামত ও জিদকে প্রাধান্য দিয়েছে, সেই দাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে বেশী ব্যর্থ হয়েছে। কেন?
(১) কেননা তখন সে স্বামীর সাথে টানাটানি ও ঠেলাঠেলিতে প্রবেশ করবে। বিজয়ের জন্য নিজের আমিত্বকে জাহির করতে চাইবে। আর তখনই সে স্বামীর জিদের সামনে পরাজিত হবে। এমনকি তার বিরুদ্ধে নিকটস্থ ব্যক্তিরাও জেদী হয়ে উঠবে। কেননা পুরুষরা জেদী স্ত্রী বা একগুঁয়ে বোনের সামনে আরো বেশী কঠোর ও জেদপ্রবণ হয়ে উঠে। কিন্তু নমনীয় নারীর সামনে তারা হয় কোমল।
(২) জেদী নারী ধারণা করে, সে যদি নিজের মতামতের উপর দৃঢ় থাকে এবং দ্বন্দ্বের ঝড়ে অটল থাকতে পারে, তবে সে বিজয়ী হবে। কিন্তু একথা ভুলে যায় যে, নিজের মতের ক্ষেত্রে জিদ করে যদি একটা বিজয় পেয়েও যায় কিন্তু বিপরীত দিকে সে এমন একটি হৃদয় হারাবে যে তাকে ভালোবাসতো।
(৩) অধিকাংশ ঘটনায় পণ্ডিতগণ সহজ-সরল নম্র ও আবেগপ্রবণ স্বামীভক্ত নারীদের প্রশংসা করেছেন। যে নারী নম্রতার সাথে স্বামীকে সঙ্গ দেয় ও তার ভালোবাসা আদায় করার কৌশল বুঝে, তাকেই স্বামী অধিকভালোবাসে ও তাকে আঁকড়ে রাখে।
(৪) ঝড় উঠলে তা চলে যাওয়ার জন্য যে নারী মাথা নামিয়ে নুয়ে পড়ে, সেই বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী, তার পক্ষেই সংসারকে চিরকাল আঁকড়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু যে নারী শুকনো গাছের মত মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, সে মচকে যায় বা এমনভাবে ভেঙ্গে যায়- যা আর জোড়া লাগে না।
(৫) নিজের মতের উপর অটল জেদী নারীর বিশ্বাস হচ্ছে.. আমিই বিজয়ী হব, তুমি পরাজিত হবে। এ নারী মূলত: অন্যকে ধ্বংস করার পূর্বে নিজেকেই ধ্বংস করে। সর্বদা আফসোসের জীবন অতিবাহিত করে। যার তিক্ততা সে ভোগ করে দুনিয়া ও আখেরাতে।
(৬) পারিবারিক কনসালটেন্সি বিভাগে কাজ করে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হচ্ছে: একগুঁয়ে ও জেদী নারীদের পরিণাম শেষ হয় তালাকের মাধ্যমে। ফলে তারা পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে হয় ব্যর্থ।
(৭) বেদুঈন মহিলা তার কন্যার বিদায়ের দিন যে উপদেশ দিয়েছিল। তা অত্যন্ত চমৎকার প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা এবং পরিক্ষীত সত্য। সফল স্ত্রীরা এর বাস্তবাতাকে প্রমাণ করেছেন। উপদেশটি হচ্ছে: “তুমি স্বামীর সামনে নিজেকে একজন দাসীতে পরিণত কর। দেখতে পাবে অচিরেই সে তোমার দাসে পরিণত হয়ে যাবে।”
ভালো পুরুষরা ধৈর্যশীল ও উদার হয়ে থাকে, কিন্তু নির্বোধ ও একগুঁয়ে-জেদী নারীরা তাদেরকে শত্রুতে পরিণত করে।
see more at; www.Quranerpoth.com

সূরা ফাতিহা

 ০১ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ  শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
 ০২ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ  যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।
 ০৩ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ  যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু।
 ০৪ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ   যিনি বিচার দিনের মালিক।
 ০৫ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ  আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।
 ০৬ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ  আমাদেরকে সরল পথ দেখাও,
 ০৭ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ  সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।
 (আমিনঃ হে আল্লাহ্‌ আমাদের দুয়া তুমি কবুল কর)

 নামকরণ  এ সূরার বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এর এই নামকরণ করা হয়েছে। যার সাহায্যে কোন বিষয়, গ্রন্থ বা জিনিসের উদ্বোধন করা হয় তাকে ‘ফাতিহা’ বলা হয়। অন্য কথায় বলা যায়, এ শব্দটি ভূমিকা এবং বক্তব্য শুরু করার অর্থ প্রকাশ করে।
 নাযিল হওয়ার সময়-কাল এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভের একেবারেই প্রথম যুগের সূরা। বরং হাদীসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটিই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাযিলকৃত প্রথম পূর্ণাঙ্গ সূরা। এর আগে মাত্র বিছিন্ন কিছু আয়াত নাযিল হয়েছিল। সেগুলো সূরা ‘আলাক্ব’, সূরা ‘মুয্‌যাম্‌মিল’ ও সূরা ‘মুদ্‌দাস্‌সির’ ইত্যাদিতে সন্নিবেশিত হয়েছে।
বিষয়বস্তু: আসলে এ সূরাটি হচ্ছে একটি দোয়া। যে কোন ব্যক্তি এ গ্রন্থটি পড়তে শুরু করলে আল্লাহ প্রথমে তাকে এ দোয়াটি শিখিয়ে দেন। গ্রন্থের শুরুতে এর স্থান দেয়ার অর্থই হচ্ছে এই যে, যদি যথার্থই এ গ্রন্থ থেকে তুমি লাভবান হতে চাও, তাহলে নিখিল বিশ্ব-জাহানের মালিক আল্লাহর কাছে দোয়া এবং সাহায্য প্রার্থনা করো। মানুষের মনে যে বস্তুটির আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদা থাকে স্বভাবত মানুষ সেটিই চায় এবং সে জন্য দোয়া করে। আবার এমন অবস্থায় সে এই দোয়া করে যখন অনুভব করে যে, যে সত্তার কাছে সে দোয়া করছে তার আকাংখিত বস্তুটি তারই কাছে আছে। কাজেই কুরআনের শুরুতে এই দোয়ার শিক্ষা দিয়ে যেন মানুষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, সত্য পথের সন্ধান লাভের জন্য এ গ্রন্থটি পড়, সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা নিয়ে এর পাতা ওলটাও এবং নিখিল বিশ্ব-জাহানের মালিক ও প্রভু আল্লাহ হচ্ছেন জ্ঞানের একমাত্র উৎস--- একথা জেনে নিয়ে একমাত্র তাঁর কাছেই পথনির্দেশনার আর্জি পেশ করেই এ গ্রন্থটি পাঠের সূচনা কর। এ বিষয়টি অনুধাবন করার পর একথা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, কুরআন ও সূরা ফাতিহার মধ্যকার আসল সম্পর্ক কোন বই ও তার ভূমিকার সম্পর্কের পর্যায়ভুক্ত নয়। বরং এ মধ্যকার আসল সম্পর্কটি দোয়া ও দোয়ার জবাবের পর্যায়ভুক্ত। সূরা ফাতিহা বান্দার পক্ষ থেকে একটি দোয়া। আর কুরআন তার জবাব আল্লাহর পক্ষ থেকে। বান্দা দোয়া করে, হে মহান প্রভু! আমাকে পথ দেখাও। জবাবে মহান প্রভু এই বলে সমগ্র কুরআন তার সামনে রেখে দেনঃ এই নাও সেই হিদায়াত ও পথের দিশা যে জন্য তুমি আমার কাছে আবেদন জানিয়েছ।
বৈশিষ্ট্য:
এই সূরাটি কোরআনের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সূরা। প্রথমতঃ এ সূরা দ্বারাই পবিত্র কোরাআন আরম্ভ হয়েছে এবং এ সূরা দিয়েই সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত নামায আরম্ভ হয়। অবতরণের দিক দিয়েও পূর্ণাঙ্গ সূরারূপে এটিই প্রথম নাযিল হয়। সূরা 'ইকরা', 'মুয্‌যাম্মিল' ও 'মুদ্দাস্‌সিরের' ক'টি আয়াত অবশ্য সূরা আল-ফাতিহার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সূরারূপে এ সূরার অবতরণই সর্বপ্রথম। যে সকল সাহাবী (রাঃ) সূরা আল-ফাতিহা সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের সে বক্তব্যের অর্থ বোধহয় এই যে, পরিপূর্ণ সূরারূপে এর আগে আর কোন সূরা নাযিল হয়নি। এ জন্যই এ সূরার নাম 'ফাতিহাতুল-কিতাব' বা কোরআনের উপক্রমণিকা রাখা হয়েছে। 'সূরা আল-ফাতিহা' এদিক দিয়ে সমগ্র কোরআনের সার-সংহ্মেপ। এ সূরায় সমগ্র কোরআনের সারমর্ম সংহ্মিপ্তকারে বলে দেয়া হয়েছে। কোরআনের অবশিষ্ট সূরাগুলো প্রকারান্তরে সূরা ফাতিহারই বিস্তৃত ব্যাখ্যা। তাই এ সূরাকে সহীহ হাদীসে 'উম্মুল কিতাব', 'উম্মুল কুরআন', 'কোরানে আযীম' বলেও অভিহিত করা হয়েছে।[1] হযরত রসূলে কারীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন যে - যার হাতে আমার জীবন-মরণ, আমি তাঁর শপথ করে বলছি, সূরা আল-ফাতিহার দৃষ্টান্ত তাওরাত, ইনজীল, যাবুর প্রভৃতি অন্য আসমানী কিতাবে তো নেই-ই, এমনকি পবিত্র কোরআনেও এর দ্বিতীয় নেই। ইমাম তিরমিযী আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলে কারীম (সাঃ) আরো বলেছেন যে - সূরায়ে ফাতিহা প্রত্যেক রোগের ঔষধবিশেষ। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাবৈশিষ্ট্য: এই সূরাটি কোরআনের একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সূরা। প্রথমতঃ এ সূরা দ্বারাই পবিত্র কোরাআন আরম্ভ হয়েছে এবং এ সূরা দিয়েই সর্বশ্রেষ্ঠ এবাদত নামায আরম্ভ হয়। অবতরণের দিক দিয়েও পূর্ণাঙ্গ সূরারূপে এটিই প্রথম নাযিল হয়। সূরা 'ইকরা', 'মুয্‌যাম্মিল' ও 'মুদ্দাস্‌সিরের' ক'টি আয়াত অবশ্য সূরা আল-ফাতিহার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সূরারূপে এ সূরার অবতরণই সর্বপ্রথম। যে সকল সাহাবী (রাঃ) সূরা আল-ফাতিহা সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের সে বক্তব্যের অর্থ বোধহয় এই যে, পরিপূর্ণ সূরারূপে এর আগে আর কোন সূরা নাযিল হয়নি। এ জন্যই এ সূরার নাম 'ফাতিহাতুল-কিতাব' বা কোরআনের উপক্রমণিকা রাখা হয়েছে। 'সূরা আল-ফাতিহা' এদিক দিয়ে সমগ্র কোরআনের সার-সংহ্মেপ। এ সূরায় সমগ্র কোরআনের সারমর্ম সংহ্মিপ্তকারে বলে দেয়া হয়েছে। কোরআনের অবশিষ্ট সূরাগুলো প্রকারান্তরে সূরা ফাতিহারই বিস্তৃত ব্যাখ্যা। তাই এ সূরাকে সহীহ হাদীসে 'উম্মুল কিতাব', 'উম্মুল কুরআন', 'কোরানে আযীম' বলেও অভিহিত করা হয়েছে।[1] হযরত রসূলে কারীম (সাঃ) এরশাদ করেছেন যে - যার হাতে আমার জীবন-মরণ, আমি তাঁর শপথ করে বলছি, সূরা আল-ফাতিহার দৃষ্টান্ত তাওরাত, ইনজীল, যাবুর প্রভৃতি অন্য আসমানী কিতাবে তো নেই-ই, এমনকি পবিত্র কোরআনেও এর দ্বিতীয় নেই। ইমাম তিরমিযী আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলে কারীম (সাঃ) আরো বলেছেন যে - সূরায়ে ফাতিহা প্রত্যেক রোগের ঔষধবিশেষ। সূরা আল-ফাতিহার প্রথমে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এ সূরার প্রথম তিনটি আয়াতে আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও তারীফের বর্ণনা করা হয়েছে এবং এর তফসীরে একথা সুস্পষ্ট হয়েছে যে, তা'রীফ ও প্রশংসার সাথে সাথে ঈমানের মৌলিক নীতি ও আল্লাহ্‌র একত্ববাদের বর্ণনাও সূহ্মভাবে দেয়া হয়েছে। তৃতীয় আয়াতে এর দু'টি শব্দে তারীফ ও প্রশংসার সাথে সাথে ইসলামের বিপ্লবাত্মক মহোত্তম আকীদা যথা কিয়ামত ও পরকালের বর্ণনা প্রমাণসহ উপস্থিত করা হয়েছে। চতুর্থ আয়াতের এক অংশে তা'রীফ ও প্রশংসা এবং অপর অংশে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়েছে। মানবজীবন তিনটি অবস্থায় অতিবাহিত হয় - অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত। পূর্বের তিনটি আয়াতের মধ্যে الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ এবং الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ - এ দু'টি আয়াতে মানুষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, অতীতে সে কেবল মাত্র আল্লাহ্‌র মুখাপেক্ষী ছিল, বর্তমানেও সে একমাত্র তারই মুখাপেক্ষী। অস্তিত্বহীন এক অবস্থা থেকে তিনি তাকে অস্তিত্ব দান করেছেন। পরবর্তী আয়াতে مَـالِكِ يَوْمِ الدِّينِ - এর মধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতেও সে আল্লাহ্‌র মুখাপেক্ষী। প্রতিদান দিবসে আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো সাহায্য পাওয়া যাবে না। একজন বুদ্ধিমান ও বিবেকবান ব্যক্তি মনের গভীরতা থেকেই এ স্বতঃস্ফুর্ত স্বীকৃতি উচ্চারণ করছে যে, আমরা তোমাকে ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করি না। এ মৌলিক চাহিদাই إِيَّاكَ نَعْبُدُ তে বর্ণনা করা হয়েছে। অভাব পূরণকারী একক সত্তা আল্লাহ্‌, সুতরাং নিজের যাবতীয় কাজে সাহায্যও তার নিকট প্রার্থনা করবে। এ মৌলিক চাহিদাই বর্ণনা وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ -এ করা হয়েছে। মোটকথা, এ চতুর্থ আয়াতে একদিকে আল্লাহ্‌র তা'রীফ ও প্রশংসার সাথে একথারও স্বীকৃতি রয়েছে যে, ইবাদত ও শ্রদ্ধা পাওয়ার একমাত্র তিনিই যোগ্য। অপরদিকে তার নিকট সাহায্য ও সহ্যয়তার প্রার্থনা করা এবং তৃতীয়তঃ আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করার শিক্ষাও দেয়া হয়েছে। শেষ তিনটি আয়াতে মানুষের দোয়া ও আবেদনের বিষয়বস্তু এবং এক বিশেষ প্রার্থনা পদ্ধতি শিক্ষা দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছে - اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ আর্থাৎ - আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। এই তিনটি আয়াতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। যেমন, সরল পথের হেদায়াতের জন্য যে আবেদন এ আয়াতে শিক্ষা দেয়া হয়েছে, এর আবেদনকারী যেমনিভাবে সাধারণ মানুষ, সাধারণ মুমিনগণ, তেমনি আওলিয়া, গাউস-কুতুব এবং নবী-রাসূলগণও বটে। কোরআনের শিক্ষায় স্পষ্টতঃই এ তথ্য ব্যক্ত হয়েছে যে, সৃষ্টির প্রতিটি স্তর, এমনকি প্রতিটি অণু-পরমাণু পর্যন্ত নিজ নিজ অবস্থানু্যায়ী প্রাণ ও অনুভূতির অধিকারী। স্ব-স্ব পরিমন্ডলে প্রতিটি বস্তুর বুদ্ধি-বিবেচনা রয়েছে। অবশ্য এ বুদ্ধি ও অনুভূতির তারতম্য রয়েছে। কোনটাতে তা স্পষ্ট এবং কোনটাতে নিতাস্তই অনুল্লেখ্য। বুদ্ধি ও অনুভূতির ক্ষেত্রে এ তারতম্যের জন্যই সমগ্র সৃষ্টিজগতের মধ্যে একমাত্র মানুষ ও জ্বিন জাতিকেই শরীয়তের হুকুম-আহকামের আওতাভুক্ত। কারণ, সৃষ্টির এ দু'টি স্তরের মধ্যেই বুদ্ধি ও অনুভূতি পূর্ণ মাত্রায় দেয়া হয়েছে। কিন্তু, তাই বলে একথা বলা যাবে না যে, একমাত্র মানুষ ও জ্বিন জাতি ছাড়া সৃষ্টির অন্য কোন কিছুর মধ্যে বুদ্ধি ও অনুভূতির অস্তিত্ব নেই।[2] কেননা, আল্লাহ্‌ সূরা বনী-ইসরাঈলে এরশাদ করেছেনঃ এমন কোন বস্তু নেই যা আল্লাহ্‌র প্রশংসার তসবীহ্‌ পাঠ করে না, কিন্তু তোমরা তাদের তসবীহ্‌ বুঝতে পার না। আল্লাহ্‌ সূরা আন নূরে এরশাদ করেছেনঃ তোমরা কি জান না যে, আস্মান-জমিনের যা কিছু রয়েছে, সকলেই আল্লাহ্‌র পবিত্রতা বর্ণনা ও গুণগান করে? বিশেষতঃ পাখীকুল যারা দু'পাখা বিস্তার করে শূন্যে উড়ে বেড়ায়, তাদের সকলেই স্ব-স্ব দোয়া তসবীহ্‌ সম্পর্কে জ্ঞাত এবং আল্লাহ্‌ তা'আলাও ওদের তসবীহ্‌ সম্পর্কে খবর রাখেন।
তথ্যসূত্রঃ মা'আরেফুল কুরআন, ও কুরতবী থেকে ।

Thursday, 6 October 2016

অধ্যায় "আখেরাতের জীবন অন্তহীন"

 ২। অধ্যায় "আখেরাতের জীবন অন্তহীন"

 আলহামদুলিল্লাহ।
 আল্লাহ তাআলা এ দুনিয়ার ধ্বংস এবং দুনিয়াবাসীর মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র সম্মান ও শ্রদ্ধাযোগ্য আপনার প্রতিপালকের চেহারা ছাড়া।”।[সূরা আর-রহমান, আয়াত: ২৬-২৭] তিনি আরও বলেন: “প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদনকারী। এরপর তাদেরকে আমার দিকেই ফিরে আসতে হবে।”[সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৭৫]
 এরপর আল্লাহ তাআলা মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন। এবং তাদেরকে চিরস্থায়ী জীবন দান করবেন; যার কোন শেষ নেই। প্রত্যেকের আমল অনুযায়ী তাদের হিসাব নিবেন। নেককারকে তার নেকি অনুপাতে প্রতিদান দিবেন। বদকারকে তার বদ অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন। এরপর মানুষ দুই ভাগ হয়ে যাবে। একভাগ জান্নাতে যাবে; অপরভাগ জাহান্নামে যাবে। জান্নাতবাসী চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকবে। জাহান্নামবাসী চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে।
 কুরআনে কারীম ও সহিহ হাদিসে এ মর্মে অনেক সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে–
 ১. আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, অবশ্য আমি প্রবিষ্ট করাব তাদেরকে জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র স্ত্রীগণ। তাদেরকে আমি প্রবিষ্ট করাব ঘন ছায়া নীড়ে”।[সূরা নিসা, আয়াত: ৫৭]
 ইমাম তাবারী বলেন: “সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল” কোন অন্ত বা শেষ ছাড়া এবং বিরতিহীনভাবে। সদা সর্বদা সেখানে তাদের জন্য তা থাকবে।[তাফসিরে তাবারী (৫/১৪৪)]
 ২. তিনি আরও বলেন: “আল্লাহ বললেনঃ আজকের দিনে সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্যে রয়েছে– উদ্যান; যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত হবে; তারা তাতে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। এটিই মহান সফলতা।”[সূরা মায়িদা, আয়াত: ১১৯]
 ৩. তিনি আরও বলেন: “যারা কুফরী অবলম্বন করেছে এবং সত্য চাপা দিয়ে রেখেছে, আল্লাহ কখনও তাদের ক্ষমা করবেন না এবং সরল পথ দেখাবেন না। তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের পথ। সেখানে তারা বাস করবে অনন্তকাল। আর এমন করাটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।”[সূরা নিসা, আয়াত: ১৬৯]
 ৪. তিনি আরও বলেন: “নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছেন। তথায় তারা অনন্তকাল থাকবে এবং কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।”[সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৬৪-৬৫]
 ৫. তিনি আরও বলেন: “কিন্তু আল্লাহর বাণী পৌছানো ও তাঁর পয়গাম প্রচার করাই আমার কাজ। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি। তথায় তারা চিরকাল থাকবে।”[সূরা আল-জিন্ন, আয়াত: ২৩]
 ইবনে কাছির বলেন:
 তথায় তারা চিরকাল থাকবে” অর্থাৎ তথায় তারা বিরতিহীনভাবে অবস্থান করবে। সেখান থেকে বের হতে পারবে না কিংবা দূরে যেতে পারবে না।[তাফসিরে ইবনে কাছির, (৩/৫২০)]
 ৬. আল্লাহ তাআলা কাফেরদের সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেন: তারা কখনো সেখানে মৃত্যুবরণ করবে না এবং ভাল জীবন যাপন করবে না। তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই যে তার পালনকর্তার কাছে অপরাধী হয়ে আসবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবে না এবং বাঁচবেও না।”[সূরা ত্বহা, আয়াত: ৭৪] তিনি আরও বলেন: “এরপর তারা সেখানে মরবেও না; বাঁচবেও না।” [সূরা আল-আ’লা, আয়াত: ১৩]
 কুরতুবী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: “তারা সেখানে মরে গিয়ে শাস্তি থেকে স্বস্তি পাবে না; আবার বাঁচার মত বাঁচবেও না।”[তাফসিরে কুরতুবী ২০/২১]
 ৭. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মৃত্যুকে (শারীরিক রূপ দিয়ে) মাথায় সাদাদাগযুক্ত কালো রঙের মেষের আকৃতি দিয়ে আনা হবে। তারপর একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবে: হে জান্নাতবাসী! এ আওয়াজ শুনে তারা ফিরে তাকাবে। আহ্বানকারী বলবে: তোমরা কি একে চেন? তারা বলবে: হ্যাঁ; এতো মৃত্যু। তারা প্রত্যেকেই তো ইতিপূর্বে তাকে দেখেছে। এরপর আবার ডাক দিয়ে বলবে, ওহে জাহান্নামবাসী! এ আওয়াজ শুনে তারাও ফিরে তাকাবে। এরপর প্রশ্ন করা হবে, তোমরা কি একে চিন? সবাই জবাব দিবে, হ্যাঁ (আমরা তাকে চিনি), এ তো ‘মৃত্যু’। তারা প্রত্যেকেই তো ইতিপূর্বে তাকে দেখেছে। এরপর সে মেষটিকে জবাই করা হবে। অতঃপর ঘোষণা দেয়া হবে, হে জান্নাতবাসী! এখানে মৃত্যুহীন চিরস্থায়ী জীবন। হে জাহান্নামবাসী! এখানে মৃত্যুহীন চিরস্থায়ী জীবন। এরপর তিনি তেলাওয়াত করেন:
 وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
 অর্থ- “আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন যখন সব ব্যাপারের মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা গাফলতিতে আছে।” [সূরা মারিয়াম, আয়াত: ৩৯] এরা হচ্ছে- দুনিয়ার গাফেল মানুষগুলো। “তারা ঈমানদার নয়” [সহিহ বুখারি (৪৪৫৩) ও সহিহ মুসলিম (২৮৫০)]
 সহিহ বুখারি (৬১৮২) ও সহিহ মুসলিম (২৮৫০) এ ইবনে উমরের বর্ণনাতে এসেছে-“এতে করে জান্নাতবাসীগণ আরও বেশি আনন্দিত হবে এবং জাহান্নামবাসীগণ আরও বেশি দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়বে।”
 ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) বলেন: এই মেষ, মেষকে শোয়ানো, যবেহ করা এবং উভয় দলের এ দৃশ্যকে দেখা বাস্তব; কল্পনা নয়; কিংবা অভিনয় নয়। অথচ কিছু কিছু ব্যক্তি এ বিষয়ে চরম ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন: মৃত্যু তো- একটি অশরীরী বিষয়। অশরীরী বিষয়কে কিভাবে দেহ দেয়া হবে; থাকতো জবাই করা।
 এই অভিমত সঠিক নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা মৃত্যু থেকে মেষের আকৃতি সৃষ্টি করবেন এবং সে মেষকে জবাই করা হবে। যেভাবে আমলগুলোকে দৃশ্যমান আকৃতি দেয়া হবে এবং এর আলোকে সওয়াব ও শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহ তাআলা অশরীরীকে শরীর দিতে পারেন। সে অশরীরী জিনিসটা হবে ওটাকে সৃষ্টি করার উপাদান। যেমনিভাবে তিনি দেহ থেকে অশরীরী জিনিস সৃষ্টি করতে পারেন। আবার তিনি অশরীরী জিনিস থেকে অশরীরী জিনিসও সৃষ্টি করতে পারেন এবং শরীরী জিনিস থেকে অন্য শরীরী জিনিস সৃষ্টি করতে পারেন। এ চারটি প্রকারের প্রত্যেকটি আল্লাহ তাআলার ক্ষমতায় রয়েছে। এর দ্বারা বিপরীতমুখী দুই জিনিস একত্রিত হওয়া আবশ্যকীয় নয় এবং এটি অসম্ভব কিছু নয়। তাছাড়া এমন দূরবর্তী কোন ব্যাখ্যা করারও প্রয়োজন নেই; যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন: মৃত্যুর ফেরেশতাকে জবাই করা হবে। এ ধরনের কথা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর অসার সংশোধনী আনার পর্যায়ে এবং এটি এমন বাতিল ব্যাখ্যা যা বিবেক-বুদ্ধি কিংবা নকলি দলিল কোনটা দ্বারা অনিবার্য নয়। বরং এ ধরনের ব্যাখ্যা দেয়ার কারণ হচ্ছে- রাসূলের বাণীর মর্মার্থ বুঝার মত যথাযথ যোগ্যতা না-থাকা।[হাদিউল আরওয়াহ, পৃষ্ঠা-২৮৩, ২৮৪]
 ৮. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন: জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করার পর, জাহান্নামবাসীগণ জাহান্নামে প্রবেশ করার পর একজন ঘোষক দণ্ডায়মান হয়ে ঘোষণা করবে: ওহে জাহান্নামবাসী আর মৃত্যু নেই; ওহে জান্নাতবাসী আর মৃত্যু নেই, চিরস্থায়ী জীবন।[সহিহ বুখারি (৬১৭৮) ও সহিহ মুসলিম (২৮৫০)]
 ৯. আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: “একজন ঘোষক ঘোষণা করবে (অর্থাৎ জান্নাতবাসীদের মাঝে): তোমরা এখানে সুস্থ থাকবে; কখনো অসুস্থ হবে না। সজীব থাকবে; কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। যুবক থাকবে; কখনো বৃদ্ধ হবে না। সর্বদা নেয়ামতের মধ্যে থাকবে; কখনো বঞ্চিত হবে না। আল্লাহর বাণী: ‘এই যে, জান্নাতের উত্তরাধিকারী তোমরা হয়েছ, এটা তোমাদের কর্মের ফল।’[সূরা যুখরুফ, আয়াত: ৭২] দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য করা হয়েছে।[সহিহ মুসলিম (২৮২৭)]
 অতএব, ও মুসলিম ভাই! এ দুনিয়ায় থাকাকালে নেকীর দিকে ছুটে চলুন। দুনিয়া তো সামান্য কয়েকটি দিন। এরপর অনন্ত সে জীবনে স্থানান্তরিত হবেন; হয়তো আপনার গন্তব্য জান্নাত; যে জান্নাতের নেয়ামত অফুরন্ত। কিংবা জাহান্নাম; যে জাহান্নামের আগুন চিরস্থায়ী। আর দেরী নয়; আর দেরী নয়; এখনি শুরু করুন। ‘অচিরেই করব’ এ বুলি বর্জন করুন। কারণ জাহান্নামবাসীদের অধিকাংশ চিৎকার হবে- ‘অচিরেই করব’।
 আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাদেরকে জান্নাতের বাসিন্দা করুন। আমীন

অধ্যায় "আখেরাতের জীবন অন্তহীন"

 ২। অধ্যায় "আখেরাতের জীবন অন্তহীন"

 আলহামদুলিল্লাহ।
 আল্লাহ তাআলা এ দুনিয়ার ধ্বংস এবং দুনিয়াবাসীর মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই ধ্বংসশীল। একমাত্র সম্মান ও শ্রদ্ধাযোগ্য আপনার প্রতিপালকের চেহারা ছাড়া।”।[সূরা আর-রহমান, আয়াত: ২৬-২৭] তিনি আরও বলেন: “প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদনকারী। এরপর তাদেরকে আমার দিকেই ফিরে আসতে হবে।”[সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৭৫]
 এরপর আল্লাহ তাআলা মানুষকে পুনরুত্থিত করবেন। এবং তাদেরকে চিরস্থায়ী জীবন দান করবেন; যার কোন শেষ নেই। প্রত্যেকের আমল অনুযায়ী তাদের হিসাব নিবেন। নেককারকে তার নেকি অনুপাতে প্রতিদান দিবেন। বদকারকে তার বদ অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন। এরপর মানুষ দুই ভাগ হয়ে যাবে। একভাগ জান্নাতে যাবে; অপরভাগ জাহান্নামে যাবে। জান্নাতবাসী চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকবে। জাহান্নামবাসী চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে।
 কুরআনে কারীম ও সহিহ হাদিসে এ মর্মে অনেক সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে–
 ১. আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, অবশ্য আমি প্রবিষ্ট করাব তাদেরকে জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। সেখানে তাদের জন্য থাকবে পবিত্র স্ত্রীগণ। তাদেরকে আমি প্রবিষ্ট করাব ঘন ছায়া নীড়ে”।[সূরা নিসা, আয়াত: ৫৭]
 ইমাম তাবারী বলেন: “সেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল” কোন অন্ত বা শেষ ছাড়া এবং বিরতিহীনভাবে। সদা সর্বদা সেখানে তাদের জন্য তা থাকবে।[তাফসিরে তাবারী (৫/১৪৪)]
 ২. তিনি আরও বলেন: “আল্লাহ বললেনঃ আজকের দিনে সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্যে রয়েছে– উদ্যান; যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত হবে; তারা তাতে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। এটিই মহান সফলতা।”[সূরা মায়িদা, আয়াত: ১১৯]
 ৩. তিনি আরও বলেন: “যারা কুফরী অবলম্বন করেছে এবং সত্য চাপা দিয়ে রেখেছে, আল্লাহ কখনও তাদের ক্ষমা করবেন না এবং সরল পথ দেখাবেন না। তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের পথ। সেখানে তারা বাস করবে অনন্তকাল। আর এমন করাটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।”[সূরা নিসা, আয়াত: ১৬৯]
 ৪. তিনি আরও বলেন: “নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছেন। তথায় তারা অনন্তকাল থাকবে এবং কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।”[সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৬৪-৬৫]
 ৫. তিনি আরও বলেন: “কিন্তু আল্লাহর বাণী পৌছানো ও তাঁর পয়গাম প্রচার করাই আমার কাজ। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে, তার জন্যে রয়েছে জাহান্নামের অগ্নি। তথায় তারা চিরকাল থাকবে।”[সূরা আল-জিন্ন, আয়াত: ২৩]
 ইবনে কাছির বলেন:
 তথায় তারা চিরকাল থাকবে” অর্থাৎ তথায় তারা বিরতিহীনভাবে অবস্থান করবে। সেখান থেকে বের হতে পারবে না কিংবা দূরে যেতে পারবে না।[তাফসিরে ইবনে কাছির, (৩/৫২০)]
 ৬. আল্লাহ তাআলা কাফেরদের সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেন: তারা কখনো সেখানে মৃত্যুবরণ করবে না এবং ভাল জীবন যাপন করবে না। তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই যে তার পালনকর্তার কাছে অপরাধী হয়ে আসবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবে না এবং বাঁচবেও না।”[সূরা ত্বহা, আয়াত: ৭৪] তিনি আরও বলেন: “এরপর তারা সেখানে মরবেও না; বাঁচবেও না।” [সূরা আল-আ’লা, আয়াত: ১৩]
 কুরতুবী এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: “তারা সেখানে মরে গিয়ে শাস্তি থেকে স্বস্তি পাবে না; আবার বাঁচার মত বাঁচবেও না।”[তাফসিরে কুরতুবী ২০/২১]
 ৭. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মৃত্যুকে (শারীরিক রূপ দিয়ে) মাথায় সাদাদাগযুক্ত কালো রঙের মেষের আকৃতি দিয়ে আনা হবে। তারপর একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবে: হে জান্নাতবাসী! এ আওয়াজ শুনে তারা ফিরে তাকাবে। আহ্বানকারী বলবে: তোমরা কি একে চেন? তারা বলবে: হ্যাঁ; এতো মৃত্যু। তারা প্রত্যেকেই তো ইতিপূর্বে তাকে দেখেছে। এরপর আবার ডাক দিয়ে বলবে, ওহে জাহান্নামবাসী! এ আওয়াজ শুনে তারাও ফিরে তাকাবে। এরপর প্রশ্ন করা হবে, তোমরা কি একে চিন? সবাই জবাব দিবে, হ্যাঁ (আমরা তাকে চিনি), এ তো ‘মৃত্যু’। তারা প্রত্যেকেই তো ইতিপূর্বে তাকে দেখেছে। এরপর সে মেষটিকে জবাই করা হবে। অতঃপর ঘোষণা দেয়া হবে, হে জান্নাতবাসী! এখানে মৃত্যুহীন চিরস্থায়ী জীবন। হে জাহান্নামবাসী! এখানে মৃত্যুহীন চিরস্থায়ী জীবন। এরপর তিনি তেলাওয়াত করেন:
 وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الْأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
 অর্থ- “আপনি তাদেরকে পরিতাপের দিবস সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিন যখন সব ব্যাপারের মীমাংসা হয়ে যাবে। এখন তারা গাফলতিতে আছে।” [সূরা মারিয়াম, আয়াত: ৩৯] এরা হচ্ছে- দুনিয়ার গাফেল মানুষগুলো। “তারা ঈমানদার নয়” [সহিহ বুখারি (৪৪৫৩) ও সহিহ মুসলিম (২৮৫০)]
 সহিহ বুখারি (৬১৮২) ও সহিহ মুসলিম (২৮৫০) এ ইবনে উমরের বর্ণনাতে এসেছে-“এতে করে জান্নাতবাসীগণ আরও বেশি আনন্দিত হবে এবং জাহান্নামবাসীগণ আরও বেশি দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়বে।”
 ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) বলেন: এই মেষ, মেষকে শোয়ানো, যবেহ করা এবং উভয় দলের এ দৃশ্যকে দেখা বাস্তব; কল্পনা নয়; কিংবা অভিনয় নয়। অথচ কিছু কিছু ব্যক্তি এ বিষয়ে চরম ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন: মৃত্যু তো- একটি অশরীরী বিষয়। অশরীরী বিষয়কে কিভাবে দেহ দেয়া হবে; থাকতো জবাই করা।
 এই অভিমত সঠিক নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা মৃত্যু থেকে মেষের আকৃতি সৃষ্টি করবেন এবং সে মেষকে জবাই করা হবে। যেভাবে আমলগুলোকে দৃশ্যমান আকৃতি দেয়া হবে এবং এর আলোকে সওয়াব ও শাস্তি দেয়া হবে। আল্লাহ তাআলা অশরীরীকে শরীর দিতে পারেন। সে অশরীরী জিনিসটা হবে ওটাকে সৃষ্টি করার উপাদান। যেমনিভাবে তিনি দেহ থেকে অশরীরী জিনিস সৃষ্টি করতে পারেন। আবার তিনি অশরীরী জিনিস থেকে অশরীরী জিনিসও সৃষ্টি করতে পারেন এবং শরীরী জিনিস থেকে অন্য শরীরী জিনিস সৃষ্টি করতে পারেন। এ চারটি প্রকারের প্রত্যেকটি আল্লাহ তাআলার ক্ষমতায় রয়েছে। এর দ্বারা বিপরীতমুখী দুই জিনিস একত্রিত হওয়া আবশ্যকীয় নয় এবং এটি অসম্ভব কিছু নয়। তাছাড়া এমন দূরবর্তী কোন ব্যাখ্যা করারও প্রয়োজন নেই; যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন: মৃত্যুর ফেরেশতাকে জবাই করা হবে। এ ধরনের কথা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর অসার সংশোধনী আনার পর্যায়ে এবং এটি এমন বাতিল ব্যাখ্যা যা বিবেক-বুদ্ধি কিংবা নকলি দলিল কোনটা দ্বারা অনিবার্য নয়। বরং এ ধরনের ব্যাখ্যা দেয়ার কারণ হচ্ছে- রাসূলের বাণীর মর্মার্থ বুঝার মত যথাযথ যোগ্যতা না-থাকা।[হাদিউল আরওয়াহ, পৃষ্ঠা-২৮৩, ২৮৪]
 ৮. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন: জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করার পর, জাহান্নামবাসীগণ জাহান্নামে প্রবেশ করার পর একজন ঘোষক দণ্ডায়মান হয়ে ঘোষণা করবে: ওহে জাহান্নামবাসী আর মৃত্যু নেই; ওহে জান্নাতবাসী আর মৃত্যু নেই, চিরস্থায়ী জীবন।[সহিহ বুখারি (৬১৭৮) ও সহিহ মুসলিম (২৮৫০)]
 ৯. আবু সাঈদ খুদরি (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: “একজন ঘোষক ঘোষণা করবে (অর্থাৎ জান্নাতবাসীদের মাঝে): তোমরা এখানে সুস্থ থাকবে; কখনো অসুস্থ হবে না। সজীব থাকবে; কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। যুবক থাকবে; কখনো বৃদ্ধ হবে না। সর্বদা নেয়ামতের মধ্যে থাকবে; কখনো বঞ্চিত হবে না। আল্লাহর বাণী: ‘এই যে, জান্নাতের উত্তরাধিকারী তোমরা হয়েছ, এটা তোমাদের কর্মের ফল।’[সূরা যুখরুফ, আয়াত: ৭২] দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য করা হয়েছে।[সহিহ মুসলিম (২৮২৭)]
 অতএব, ও মুসলিম ভাই! এ দুনিয়ায় থাকাকালে নেকীর দিকে ছুটে চলুন। দুনিয়া তো সামান্য কয়েকটি দিন। এরপর অনন্ত সে জীবনে স্থানান্তরিত হবেন; হয়তো আপনার গন্তব্য জান্নাত; যে জান্নাতের নেয়ামত অফুরন্ত। কিংবা জাহান্নাম; যে জাহান্নামের আগুন চিরস্থায়ী। আর দেরী নয়; আর দেরী নয়; এখনি শুরু করুন। ‘অচিরেই করব’ এ বুলি বর্জন করুন। কারণ জাহান্নামবাসীদের অধিকাংশ চিৎকার হবে- ‘অচিরেই করব’।
 আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাদেরকে জান্নাতের বাসিন্দা করুন। আমীন

Wednesday, 5 October 2016

মেরাজের ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য নবীদের ইমাম হওয়ার হেকমত



মেরাজের ঘটনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য নবীদের ইমাম হওয়ার হেকমত


 আলহামদুলিল্লাহ।
 মসজিদে আকসাতে (যে মসজিদ ইব্রাহিম খলিল আঃ এর পরে আগত সকল নবীর ইবাদত ঘর) অন্য নবীদের ইমাম হয়ে আমাদের নবীর নামায আদায় করার কারণ হচ্ছে এটা প্রমাণ করা যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবচেয়ে বড় নেতা; সবচেয়ে প্রাধান্যযোগ্য; হাফেয ইবনে কাছির (রহঃ) সুস্পষ্টভাবে এ কথা সূরা বনি ইসরাইলের তাফসিরের প্রথমেই উল্লেখ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক সকল নবীর ইমাম হয়ে নামায আদায় করা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন: “এরপর তাঁর মর্যাদা ও ফজিলত প্রকাশ করার জন্য ইমামতির ক্ষেত্রে তাঁকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এটি ছিল জিব্রাইল (আঃ) এর ইঙ্গিত মোতাবেক।”
 কোন সন্দেহ নেই আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই প্রাধান্য পাওয়ার উপযুক্ত; নবীদের সেরা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আমি কেয়ামতের দিন সকল বনী আদমের নেতা হব। সর্বপ্রথম আমার কবর উন্মুক্ত করা হবে। আমি হব সর্বপ্রথম সুপারিশকারী ও সর্বপ্রথম যার সুপারিশ গৃহীত হবে।”[সহিহ মুসলিম (২২৭৮)]
 কোন কোন আলেম অপর একটি হেকমত উল্লেখ করার চেষ্টা করেন। তারা বলেন: হাদিসের বাণী: “আমি তাদের ইমামতি করলাম” এর মধ্যে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এ উম্মত সমস্ত মানব জাতির নেতৃত্ব দিবে।
 আল্লাহই ভাল জানেন।

Thursday, 29 September 2016

স্বলাত/ নামাজ



আমাদের দেশে ২ ধরনের নামাজ আদায় হয়, মহি লা ও পুরুষের আসলেই কি ভেদাভেদ আছে?
আলহামদুলিল্লাহ। সঠিক মতানুযায়ী মহিলাদের নামায ও পুরুষের নামাযের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। কিছু কিছু ফিকাহবিদ যে পার্থক্যগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলোর পক্ষে কোন দলিল নেই। প্রশ্নে আপনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন “তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবে নামায আদায় কর” এর বিধান সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করবে। ইসলামী বিধি-বিধানগুলো নারী-পুরুষ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে, দলিল যদি বিশেষ কোন বিধানকে খাস করে সেটা ভিন্ন কথা। অতএব, সুন্নাহ হল— রুকু, সেজদা, ক্বিরাত ও বুকে হাত রাখা ইত্যাদি সবক্ষেত্রে মহিলার নামায পুরুষের নামাযের মত। অনুরূপভাবে রুকুকালে হাঁটুতে হাত রাখার পদ্ধতিও একই। সেজদাকালে কাঁধ বরাবর কিংবা কান বরাবর জমিনে হাত রাখার পদ্ধতিও একই। রুকুকালে পিঠ সোজা রাখার পদ্ধতিও অভিন্ন। রুকু ও সেজদাতে যা পড়া হবে সেগুলো এক। রুকু ও প্রথম সেজদা থেকে উঠে যা বলবে সেটাও এক। এ সব ক্ষেত্রে নারীর নামায পুরুষের নামাযের ন্যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্বোক্ত হাদিসের ভিত্তিতে: “তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ সেভাবে নামায আদায় কর”[সহিহ বুখারী] আর ইক্বামত ও আযান: এ দুইটি নামাযের বাহিরের বিষয়। ইক্বামত ও আযান পুরুষের জন্য খাস। এই মর্মে দলিল উদ্ধৃত হয়েছে। পুরুষেরা ইক্বামত ও আযান দিবে। আর নারীদের ইক্বামত ও আযান নেই। উচ্চস্বরে ক্বিরাত পড়া: মহিলারা ফজর, মাগরিব ও এশার নামাযে উচ্চস্বরে ক্বিরাত পড়তে পারেন। ফজরের দুই রাকাতে উচ্চস্বরে ক্বিরাত পড়বেন। মাগরিবের প্রথম দুই রাকাতে উচ্চস্বরে ক্বিরাত পড়বেন। এশার প্রথম দুই রাকাতে উচ্চস্বরে ক্বিরাত পড়বেন, যেভাবে পুরুষেরা করে থাকে।
 
[সমাপ্ত] মহামান্য শাইখ আব্দুল আযিয বিন বায (রহঃ)
 [ফাতাওয়া নুরুন আলাদ দারব (২/৭৯৯)]

আল্লাহর নয়, এখন চলে মানুষের বিধান

   
আমার জন্মদাতা পিতা-মাতা বেশ ভাল করেই জানেন কোন পথে গেলে আমি ভাল থাকব আর কোন পথে গেলে খারাপ, তাই তারা ছোট বেলা থেকে সকলের পিতা মাতাই সকলকে একটি দিক বলে দেয়, অমুকের সাথে যেও না, অমুক ভাল না, অমুক থেকে দূরে থেক, ঐ কাজ থেকে দূরে থাক, ঐ গুলা ভাল কাজ না, ইত্যাদি আমদের কে সতর্ক করে দেয়, আমাদের লেখা পড়া শিখিয়ে আমাদের জ্ঞানী ও বিচুক্ষন করার ভাবনায় থাকে যেন আমরা ভবিষ্যতে কোন সমস্যা বা অভাবে না পরি। আমাদের সাক্সেস দেখতেচায় আমাদের পিতা ও মাতা । সকলের বেলায়ই এমন শুধুই শুভ কামনা। যদি আমরা তাদের কথামত না চলি তাহলে আমাদের সাথে অনেক ঝগরার বিচার, সেই বিচার এমন কি দৌরানী ও মার ও খেতে হয় আমাদের ।
তাই এই দুনিয়ার সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'আলা, আল্লাহ্‌ সুবহানা তা'আলাই ভাল জানেন আমরা কোন পথে চললে ভাল থাকব আর কোন পথে খারাপ। তাই তিনি আমাদের সতর্ক করেছেন অনেক কিছু থেকে, আর যেহেতু এই দুনিয়া ও দুনিয়ার সিকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা তাই তিনিই আল্লাহ্‌ তা'আলা হলেন একমাত্র বিধান দাতা। আমরা যদি আল্লাহর বিধান মেনে চলি তাহলে আমাদের চলার পথে ও আখেরাতে কোন সমস্যা হবেনা ইনশাল্লাহ,
তাই আজ হাজির হয়েছি সেই বিধানদাতার এক বিধান নিয়ে যার এক চুল পরিমান ও আমাদের দেশে চলমান নেই। আমরা তাঁর পুরু বিধানই পরিবর্তন করে ফেলেছি। আল্লাহর কালাম কোরানুল কারীম থেকে সেই একটি আয়াতঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى ۖ الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنثَىٰ بِالْأُنثَىٰ ۚ فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ۗ ذَٰلِكَ تَخْفِيفٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ ۗ فَمَنِ اعْتَدَىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ [٢:١٧٨] ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের প্রতি হত্যার ক্ষেত্রে প্রতিশোধের বিধান দেয়া হয়েছে। স্বাধীন ব্যক্তির উপরে স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, আর দাসের উপরে দাসের ক্ষেত্রে, আর নারীর উপরে নারীর ক্ষেত্রে। তবে যাকে কিছুটা রেহাই দেয়া হয় তার ভাইয়ের তরফ হতে, তাহলে বিচার হবে ন্যায্যভাবে, আর তার প্রতি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে উদারভাবে। -- এটি তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে লঘু-ব্যবস্থা ও করুণা। কাজেই এরপরে যে সীমালঙ্ঘন করবে
তার জন্য রয়েছে ব্যথাদায়ক শাস্তি।
এখানে আল্লাহ্‌ তা'আলা প্রত্যেক মুসলিম কে বিধান দিয়েছে, এই বিধান কি আমরা এক আনা ও মানি? না ইসলাম প্রচলন এর পর থেকে কখন ও কি এই বিধান চালু করার উদ্দেগ দেখা গেসে? আমার জানা মতে না। তাহলে এত চিন্তাবীদ এত ক্ষমতা কিসের জন্য? সব কি এই বিধান বাতিল এর জন্য? আমরা কি আল্লাহর বিধানে সন্তুষ্ট নই?
শিরক কাকে বলে?
শুধুই মূরতি পুজা করলেই কি শিরক?
মাজার পুজা করলেই কি শিরক?
কবর পুজা করলেই কি শিরক?
আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেছেনঃ
"তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে সমকক্ষ করো না"
[সূরা বাক্বারা ২, আয়াত ২২]

এখানে আল্লাহ্‌ তা'আলা বিধান দিলেন হত্যার বদলে হত্যা, আর আমাদের বিধানমতে হলো হত্যার বদলে জেল বা মুক্তি।
আল্লাহর বিধান পরিবর্তনকারি কি আল্লাহর সমকক্ষ নয়?
আল্লাহর সমক্ষ করা কি শিরক নয়?

আজ আমাদের সমাজ শুধু ব্যাস্ত আমিন আর রাফউল ইয়াদাইন নিয়ে। অথচ শিরক করলে যে জাহান্নামে যেতে হবে সেই কথা কেউ বলে না।
আল্লাহর বিধান ফিরিয়ে আনতে হবে সে কথা কেউ বলে না।
আল্লাহর প্রতি শুক্ষ ঈমান আনতে হবে এই কথা কেউ বলে না।
আখেরাতে সেই ব্যাক্তির চেয়ে সম্মানী আর কে যে, জিহাদ করে শহীদ হয়েছে, অথচ সেই জিহাদ ই আজ পন্ড করে দিয়ে ইসলাম কায়েম করতে চায় মুসলিম। আজ আমাদের শিখানো হচ্ছে মনের জিহাদই বড় জিহাদ।
যত সাহাবী ছিল একজন সাহাবীর নাম জানতে চাই যে বলেছে , হে আল্লাহর রসূল সাঃ, আমি যুদ্ধে যাব না, আমি মনের সাথে জিহাদ করছি। সারা জীবনেও খুজে পাবেন না। সবচেয়ে জরুরী যে বিষয় তা হলো ঈমান, সেই ঈমানই আজ ঠিক নাই, আমরা ব্যস্ত আছি মাস'আলা নিয়ে।
শেষ কথা, সকল বিধান বাতিল কর, ওহীর বিধান কায়েম কর।
আল্লাহু আলাম।